ভিজিট করতে ক্লিক করুন!
ভিজিট করতে ক্লিক করুন!

ছোট মেয়েটির বয়স মাত্র বার থেকে তেরতে পা দিল, ঘরের কাছেই ইশকুল থেকে ফিরেই ভীষণ মন খারাপ আর সেই সাথে ব্যস্ততা, কারণ ইশকুল থেকে ফেরার পথে রাস্তার পাশেই একটি গাছের নীচে ডানা ভাঙ্গা একটি পাখী পরে আছে, পাখীটিকে উদ্ধারের কাজে সে নিজেই পদক্ষেপ নিলো, সরকারী পশু হাসপাতালে টেলিফোন করে এম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা সেই সাথে বন্ধুদের ফোন করে জানিয়ে দিল যে আজ তার মন ভালো নেই তাই বন্ধুদের সাথে খেলাধুলাটাও আজ বন্ধ।
সময় পেরিয়ে যাচ্ছে এখনো এম্বুল্যান্স আসছে না তাই দ্বিতীয় বার ফোন করতে যাবে ঠিক সেই সময় অসুস্থ পাখীটিকে তুলে নিতে এম্বুল্যান্স হাজির, আমিও গাছটির নীচে মেয়ের সাথেই এম্বুল্যান্সের অপেক্ষায় ছিলাম।
ঠিক চার দিন পর মেয়ে আমার নিজেই হাসপাতালে ফোন করে জেনে নিলো যে পাখীটি সুস্থ হয়ে আপন নীড়ে ফিরে গেছে। মানবতার উপর পরের সপ্তাহে ছোট্ট মেয়েটি এ বিষয়ে একটি রচনা লিখে ক্লাসে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।

যাক যে বিষয়টি এখানে আলোকপাত করার চেষ্টা করছি সেটা হচ্ছে সভ্য দেশে ছেলে মেয়েরা সাধারণ স্কুলে যাওয়া আসার সময়ই প্রকৃতি. মানবতা, সততা ও নিজের প্রতি দায়িত্ব জ্ঞানগুলোর শিক্ষা গ্রহণ করে।

এদিকে বাংলাদেশ পুলিশের জরিপে বের হয়ে আসছে যে জঙ্গিবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ৫৬ শতাংশ আসছে সাধারণ শিক্ষা থেকে এবং ২২ শতাংশ মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে। তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়াচ্ছে, বিষয়টি কি এমন হতে পারেনা যে আমাদের সমাজের আসল চিত্রটাই দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে, তা হলে বলতে হয় প্রতি ঘরে ঘরেই এখন সাম্প্রদায়িকতার বাতাস বইতে সুরু করেছে কারণ সাধারণ স্কুল শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকতা শেখার কোনই সুযোগ নাই, তবে কি আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় অতি নীরবে বহুদিন আগে থেকেই মগজ ধোলাই কার্যক্রম সুরু হয়ে গেছে, যেখানে পিতা মাতা অভিভাবকদের মাঝে সাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনা ছড়িয়ে গেছে। 
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের গবেষণাকে যদি সত্য বলে ধরে নিতেই হয় তবে বলতে হয় যে প্রত্যেক শিশুকেই আজ থেকে মাদ্রাসা ভর্তি করাতে উদ্বুদ্ধ করা উচিত। তাহলে আবারও বলতে হয় সাধারণ স্কুল শিক্ষাতেই হয়তো জিহাদ কি, জিহাদ কেন করতে হয়, কারাই বা জিহাদ করে, এসব শিক্ষা দেয়া হয় ! কিছুদিন আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জঙ্গিবাদ ছড়ানো ওয়াজকারীদের তালিকা করার কথা বলা হয়েছিল, তা এখন কি পুলিশের উপরই মগজ ধোলাই সুরু হয়ে গেছে ? তা না হলে তো সাধারণ ইশকুল শিক্ষকদের জঙ্গিবাদ ছড়ানোর অপরাধে অভিযুক্ত করা উচিত ছিল, যদি মাদ্রাসায় সেই ধরনের সুযোগ না থেকেই থাকে।

এসবের কিছুই যদি সত্য না হয়ে থাকে তবে সরকার কি দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের উপর মগজ ধোলাই কার্যক্রম চালিয়ে সফলতা পেয়েছে? যদি তাই না হয় তবে ইশকুলের পাঠ্য পুস্তক যখন ইসলামী করণ বা অনেক হিন্দু লেখকদের লেখা বাতিল করা হল, জনসাধারণ নীরবে তা মেনে নিলো কেন ? এখানেও বলতে হচ্ছে দেশে খুব নীরবে মগজ ধোলাই সুরুই হয়ে গেছে, যদি তাই না হয় তবে দেশে এই মানবতা বিপর্যয়ের কারণ কি ? পথে ঘাটে যখন নির্মম ভাবে মানুষ কুপিয়ে হত্যা করা হয় সাধারণ মানুষ আসে পাশে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করার কারণ কি ? উদহারণ সরূপ বলে যায় বরগুনাতে প্রকাশ্য দিবালোকেই জন সম্মুখে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করার সময় জনসাধারণের মাঝে মানবতার যে অবক্ষয় লক্ষ্য করা গেছে তাতে নির্ধিধায় বলা যায় যে দেশে জনসাধারণের উপর খুব নীরবে মগজ ধোলাই হচ্ছে।

প্রতিটি দেশেই নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় আইনের আলোকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আদেশ নির্দেশের প্রয়োজন হয়না, সর্ব ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে পান থেকে চুন খসলেই মন্ত্রী বা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় বসে থাকেন।
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে যোগাযোগ ব্যবস্থায় রাস্তা ঘাট ব্রিজ কালভার্ট গুলো সচল রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রয়োজন হয়ে পরে। এভাবেই যদি চলতে থাকে তবে বলতে হয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় গুলো আমাদের উপর খুব নীরবে মগজ ধোলাই চালিয়ে যাচ্ছে যাতে আমরা বুঝতে পারি মন্ত্রীদের যে দায়দায়িত্ব পালন করতে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রয়োজন। সব কিছুর পর একটা কথা অপকটে বলতে হচ্ছে যে এত বিশাল আয়তনের মন্ত্রী পরিষদ রেখে দেশের লাভটা কি? এর চাইতে অনেক ছোট মন্ত্রী পরিষদ দিয়ে বাংলাদেশের চাইতে পাঁচগুণ বাজেট দিয়ে অনেক দেশ তাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
এত কিছুর পর আমার জানতে ইচ্ছে হচ্ছে আসলে মগজ ধোলাই শব্দটি কি, আর তা কি শুধু সাহিত্যেই ব্যবহার করা হয় নাকি জনগণের উপর খুব নীরবে আধুনিক কায়দায় মগজ ধোলাই কার্যক্রম চালানো যায় !
— মাহবুব আরিফ কিন্তু।

Please To Write An Article Sign-Up
error0
News Reporter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *