পঁচিশে বৈশাখের টাইম ক্যাপসুল
ভিজিট করতে ক্লিক করুন!
ভিজিট করতে ক্লিক করুন!

কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে !
মেলে দিলেম গানের সুরের এই ডানা মনে মনে। 
তেপান্তরের পাথার পেরোই রূপ-কথার,
পথ ভুলে যাই দূর পারে সেই চুপ্‌-কথার–
পারুলবনের চম্পারে মোর হয় জানা মনে মনে।। 
সূর্য যখন অস্তে পড়ে ঢুলি মেঘে মেঘে আকাশ-কুসুম তুলি। 
সাত সাগরের ফেনায় ফেনায় মিশে 
যাই ভেসে দূর দিশে–
পরীর দেশের বন্ধ দুয়ার দিই হানা মনে মনে।।
আমি আমাকে খুঁজতেই সেই সকাল থেকেই হন্য হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি ব্যস্ত শহরের আনাচে কানাচে কোথাও যে আমি আমাকে খুঁজে পাচ্ছি না। হঠাৎ একটা দোকানের জানালায় সামনে আসতেই উদ্দেশহীন চলার গতিতে কিছুটা ছন্দ পতন ঘটলো, ফ্রেমে বাঁধাই করা কাগজে লেখা “টাইম ক্যাপসুল”, বিষয়টি কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না সব কিছুই কেমন যেন ঘোলাটে মনে হচ্ছে, আমি কি আসলেই পঁচিশে বৈশাখের টাইম ক্যাপসুল খুজে পেলাম। দোকানীকে জিজ্ঞাস করতেই জানতে পারলাম এই ক্যাপসুলটা খেলেই নাকি অতীত কি ভবিষ্যতে চলে যাওয়া যায়, সত্যি তো রবি ঠাকুর নিশ্চয়ই আগে থেকেই জানতেন মানুষ ঠিকই একদিন কোথাও না কোথাও হারিয়ে যাবার তাগিদ অনুভব করবে, জীবনের অনেক চাওয়া না পাওয়াকে খুঁজে নেবার তাগিদেই টাইম ক্যাপসুলের শরণাপন্ন হবে।
ক্যাসুলটা পেয়ে দোকানীকে জড়িয়ে ধরেই ঠিক পঁয়ত্রিশ বছর ব্যাক টু দা প্যাভেলিয়ান ক্যাপসুলটা কিনে নিলাম, ভবিষ্যতে যাবার চাইতে অতীতে ফিরে যাবার ক্যাপসুলটার দামটা যদিও একটু বেশী তবে দামের জন্যে আটকালাম না, রাতে ঘুমাতে যাবার আগে এক গ্লাস গরম দুধের সাথে ক্যাপসুলটা খেয়ে নিয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠেই চোখের সামনে আবার সেই জাম্বুরী মাঠ লেখা পড়ার বালাই নেই শুধু চোখের সামনে বিশাল সেই জাম্বুরি মাঠে এসে পড়লেই জীবনের যত সুখ আর স্বপ্ন।

দুপুরের দিকে নয় নাম্বার মাঠে বন্ধুদের সাথে ব্যাঘ্র গোষ্ঠীর আগামী পরিকল্পনা নিয়ে মিটিং, নয় নাম্বার মাঠেই খোকনের তিনদিন ব্যাপী সাইকেল চালানোর অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে ব্যাঘ্র গোষ্ঠী, জোহার সাথে এই নিয়ে দারুণ তর্ক কারণ জোহার ওই একটাই কথা সেও তিনদিন খোকনের সাথেই সাইকেল চালাবে, কে শোনা কার কথা, গর্দভটাকে কিছুতেই বোঝানো যাচ্ছে না যে কিছু একটা ঝামেলা হলেই পুরো অনুষ্ঠানে বিফলে যাবে।

সন্ধ্যাবেলা বেশ কয়েকবার রোমিতাদের বিল্ডিংয়ের সামনে হেটে গেছি বেশ কবার কিন্তু আজ বোধকরি আমার উপস্থিতিটা তাকে বিশেষ নাড়া দিতে পারেনি, তবে কি আমার প্রেম নিবেদনটা বেশ পানসে হয়ে যাচ্ছে, কিছুতেই মনকে শায় দিয়ে পারছিনা যে পড়ালেখায় আমি খুব ভালো না হলেও খেলাধুলায় তো ভালো, তাই একটু আধটু পাত্তা দিলে দোষটা কিসের, আমি তো আর রাক্ষস খোক্কস কেউ নই যে তোমাকে ঘপাশ করে গিলে খাবো, বড় জোর কোথাও নির্জনে হাত না ধরি অন্তত আঙুলের ফাঁকে তো নিজের আঙ্গুল রাখতে পারবো, খুব কাছে না এলেও সমুদ্রে পারে তোমার খোলা চুলে ছুটে চলাটা আমার মনে বয়ে যাবে সুর ” তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে টুকরো করে কাছি,
ডুবতে রাজি আছি, আমি ডুবতে রাজি আছি॥
সকাল আমার গেল মিছে, বিকেল যে যায় তারি পিছে গো,
রেখো না আর, বেঁধো না আর কুলের কাছাকাছি॥
মাঝির লাগি আছি জাগি সকল রাত্রিবেলা, ঢেউগুলো যে আমায় নিয়ে করে কেবল খেলা।
ঝড়কে আমি করব মিতে, ডরব না তার ভ্রুকুটিতে দাও ছেরে …
কিছুটা হলেও আমাকে আর একবার মনে করিয়ে দেবে আজ পঁচিশে বৈশাখ।
ভোরের সকালে কনকনে ঠান্ডায় ঘুম ভাঙতেই পহেলা বৈশাখের সুখময় সপ্নটা জানালা দিয়ে পালিয়ে গেল, হতাশা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে আমি এখন রমনার বটমূলে পহেলা বৈশাখ থেকে ঠিক বার হাজার কিলোমিটার দুরে চলে এসেছি, এখনি বেড়িয়ে পড়তে হবে রুটি টোস্ট করার সময় পেলাম না তাই ঠান্ডা রুটি আর এক কাপ কফিই ছিল আজকের নাস্তা। 
—মাহবুব আরিফ কিন্তু।

Please To Write An Article Sign-Up
error0
News Reporter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *