একদিনের বৌ আমি !!!
ভিজিট করতে ক্লিক করুন!
ভিজিট করতে ক্লিক করুন!

স্বাস্থ জনিত বিশেষ একটি কারণে আমার স্ত্রী ২৪ ঘন্টা হাসপাতালে থাকতে হবে . মানে হলো পুরো একদিন এবং সম্পূর্ণ একটি রাত .

আগে থেকেই জানতাম এমন একটি ২৪ ঘন্টার ঘটনা আসবে . যদিও বিশেষ কোনো সমস্যা নয় , স্বাভাবিক অসুস্থতার কারণেই সেটা করতে হচ্ছে .

যাক, বৌ হাসপাতালে সে বিষয়ে আমি মোটেও উদ্বিগ্ন নই আপাতত .কারণটি তেমন উদ্বিগ্নের বিষয় নয় আগেই বলেছি .

স্ত্রী নিজেই ২৪ ঘন্টার যাবতীয় প্রয়োজনীয় পোশাকাদি এবং জিনিসপত্র একাট্টা করা লাগেজ গুছিয়ে রেখেছে .

পাশাপাশি আমাদের পরিবারের বাকি সদস্যদের জন্য ২৪ ঘন্টার খাবার প্রস্তুত করে রেখেছে . বাসাটা সম্পূর্ণ ধুয়ে মুছে টিপটপ করা হয়েছে .

সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে যেনো এই চব্বিশ ঘন্টায় আমার উপর তেমন উটকো চাপ না আসে .

বাসায় রইলাম আমি আর আমার ছোট্ট ২ মেয়ে .
আমি ২৪ ঘন্টার পুরো দায়িত্ব নিলাম তাঁদের .

অভিজ্ঞতা নাম্বার ১ !!!

রাতে যখন বাবুদের ডিনার করানোর জন্য প্রস্তুতি নিলাম , ১ ঘন্টা শুধু তাদের ২ জনের পেছনে দৌড়াতে হয়েছে .

বাবুদের গান , রাইমস, অভিনয় , চিৎকার , চেঁচামিচি , অবশেষে ক্লান্ত এক শরীর নিয়ে বিছানার দিকে যাত্রা .

মনে হচ্ছিলো অজানা এক উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি .
অনেক রাতে ক্লান্ত হয়ে তারা ঘুমালো .

অভিজ্ঞতা নাম্বার ২ : সব শেষে সবগুলো লাইট নেভাতে হয়েছিল .

বাক বাকুম পায়রা , ওই দেখা তাল গাছ , এক জোনাকি ২ জোনাকি , কমপক্ষে ২০ টা গান গেয়েছি .
আমি ঘুমের ঘোরে হারিয়ে যাচ্ছিলাম তবুও বাবুদের ঘুমের দেখা মিলছিলোনা .

অভিজ্ঞতা নাম্বার ৩ : সকালে উঠে ব্রাশ করতে তাদেরকে , ব্রাশ ব্রাশ ব্রাশ ইউর টিথ গানটি অনিচ্ছা সত্বেও পরিবেশন করতে হয়েছে .

তারা গানের তালে তালে নিজেদের দাঁত নিজেরা কোনো রকম পরিষ্কার করলো .

রেডি নাস্তা গরম করে তাদের খাওয়ানো ছিলো আরেকটা যুদ্ধের মতো .

অভিজ্ঞতা ৪: ঘর ঝাড়ু দেয়া , মোছা , বাবুদের গোসল করানো , বাসন প্লেট ধোয়া .

দুপুরের আগেই অর্ধ মৃতের মতো ফ্লোরে শুয়ে লিখতে বসলাম আমার পুরুষ জাতিদের উদ্দেশ্যে কিছু লিখবো বলে .

হে পুরুষ তোমাদের শত সহস্র জন্মের সৌভাগ্যের ফলে বাঙালি নারীর স্বামী হিসেবে জন্মেছ .

আজ সত্যি হাঁড়ে হাঁড়ে অনুভব করতে পারছি একজন গৃহিনী নারী কত পরিশ্রম করে আপন গৃহে .

নিজেকে প্রশ্ন করতে লাগলাম , তারা কি শুধুই গৃহিনী ???

আমি মনে করি একজন গৃহিণীকে শুধুমাত্র গৃহিনী উপাধি দিয়ে অন্যায় করা হচ্ছে .

অনুভব :

আজকাল আমরা যখন কোনো নারীর সাথে পরিচিত হই , দ্বিতীয় প্রশ্নটি আমরা করি , আপনি কি কাজ করেন .

গৃহিণীরা নিজেদেরকে খুব লজ্জিত বোধ করে নিচু কণ্ঠে বলে” কিছু করিনা, আমি গৃহিনী ”

বন্ধুরা শুধু একদিন বছরে অন্তত একদিন নিজের ঘরের সকল কাজের দায়িত্ব নিন . তবেই বুঝতে পারবেন এই গৃহ কর্ম কি শুধুই সাধারণ কাজ নাকি সকল কাজের চেয়ে পরিশ্রমী কাজ .

নারীদের প্রতি সত্যি এক অমানবিক অবিচার আমরা করেই চলেছি . বিশেষ করে তাঁদের হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পেশাটিকে সম্পূর্ণ অমর্যাদাকর পেশাহীন হিসেবে দেখি .

আমি দাবী করবো , গৃহিণীদের এই মহৎ কর্মটিকে মর্যাদাকর পেশা হিসেবে গণ্য করা হোক .

প্রতিটি গৃহিণীকে সরকারি বিভিন্ন চাকুরীর সমপরিমাণ সুবিধা ও মর্যাদা দেয়া হোক . একটি বিশেষ স্কিম চালু করে তাদেরকে মাসিক বা বাৎসরিক ইনসেনটিভ দেয়া হোক .

এবং শেষ বয়সে প্রতিটি গৃহিণীকে পেনশনের আওতায় আনা হোক .

মর্যাদার দিক দিয়ে সর্বোচ্চ বিবেচনা দিয়ে গৃহিনী বাদ দিয়ে একটি ভিন্ন মর্যাদা সম্পন্ন পেশায় নামকরণ করা হোক .

নারীদের পরিশ্রমী জীবনের অনুভবতা যতদিন পুরুষদের বিবেচনায় না আসবে, ততদিন আমাদের নারীদের প্রতি যথাযত মূল্যায়ন করা সম্ভব হবেনা .

হে নারী, নত আমি তোমাদের তরে !!!

সাইফুর সাগর
সাংবাদিক

Please To Write An Article Sign-Up
error0
News Reporter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *